কবি
ইচ্ছে করে উড়ে যেতে সোনার ওই গাঁয়
যেথায় ছলনা ছাড়া মধুর বায়ু বয়।
মানুষ -প্রকৃতির মধু মিতালী, যেন স্বর্গপুরের ছবি,
ওই খানেতে বেঁধেছিলো গান শখের কোনো কবি।
কবি ছিল আত্মভোলা রসে ভরা প্রাণ, কাব্যখানি নিপুণ ছিল সবই বিধাতার দান।
সহসা কবি ভাবলো বসে
পাড়ি দেবে দূর দেশেতে..
পড়ে সে এ কোন পোড়া গাঁয়
এখানেতে মানুষ শুধু দুঃখের গান গায়।
হাজার সৃষ্টি বুকে নিয়ে
ভাব জমালো শহরে গিয়ে
সোনার গাঁ রইলো পড়ে
দূরদিগন্তের পাড়ে....
আজব সব বেশভূষণে -আদব সব কায়দা
করলো চুরি শখের কবির আত্মভোলা মনটা।
জটিল সব জীবন যাত্রা, জটিল সব প্রশ্নে
কেড়ে নিলো সোনা কবির প্রাণটা অতি যত্নে।
কোথায় কাব্য? কোথায় ভাব? কোথায় নাড়ির টান?
বিধাতা বুঝি বুঝিয়ে দিলেন সভ্য জাঁক জমকের দান!
অবাক কবি, ভাবে বসে বুঝি এ কোন বিশ্ব!
প্রাণভরা রস মধু বিলিয়ে আজ সে নিঃস্ব!
ভাবতে বসে মনে পড়ে পুরানো সেই গান,
যেখানে সে রচেছিলো ভৈরবীর তান।
আজ গোধূলি বেলায় হারায়ে সব
অন্তপুরানে উঠেছে রব,
মধু মিতালীর কলতান
ভুলে সব প্রাণের টান
এ বাসর রচেছিলো কার তরে?
বিশ্ববিধাত্রীর আশীর্বাদ....
অন্তরে পুরায়ে স্বাদ....
রসের কবি ফিরিতে চায় ঘরে।
হারায়ে ফেরে কবি
খুঁজতে সুখের ছবি,
বেদন মালা লয়ে গলে.....
ভোলা কবি সোনার গাঁয়ে চলে.......।