Posts

মা🌼🌼

আশ্বিনাকাশে কাশের বনে   পাখপাখালির কলতানে,              শরত হেসেছে...., ওমা পুজোর গন্ধ এসেছে।। দশ হাতে দশ অস্ত্র ধরে      পুত্র কন্যা সঙ্গে লয়ে,    সিংহ রাজকে বাহন করে মর্ত্যে এসেছে ওমা উমা মা ঘরে এসেছে......।। ধূপ ধূনোতে গন্ধে বিভোর   সকাল বিকাল কাটে প্রহর, চৌদিকেতে আনন্দের ওই  হাটবসেছে,.. ওমা দুঃখনাশিনী মা ঘরে এসেছে।। সকাল হলেই নতুন জামা, নতুন সব সাজে, প্রাঙ্গন সব ওঠে ভরে আনন্দ কলরবে.. কাঁসরের সুর লহর তোলে, ঢাকের ওই মধুর বোলে, পুরোহিতের মন্ত্র পাঠে ওই ভুবন ভরিছে, ওমা ঘর আলো করে দুর্গা মা এসেছে।। রঙবেরঙের আলোর ছটায়   মধুর সব গানে আনন্দ আর কোলাহলের বান ডেকেছে প্রাণে। চোখ খুলে ওই সকাল বেলা   সঙ্গে নিয়ে ফুলমালা, দুহাত জুড়ি সকলে মিলি  অঞ্জলী দিয়েছে, ওমা আনন্দময়ী মা ঘরে এসেছে।। ত্রিশূল হাতে জগৎ তারিণী   রোগ বিনাশক পাপহারিণী, পদ্ম মালা লয়ে গলে অঙ্গ শোভিছে... ওমা ভূবন মোহিনী, কল্যাণময়ী মা ঘরে এসেছে.....।।

কবি

ইচ্ছে করে উড়ে যেতে সোনার ওই গাঁয় যেথায় ছলনা ছাড়া মধুর বায়ু বয়। মানুষ -প্রকৃতির মধু মিতালী, যেন স্বর্গপুরের ছবি, ওই খানেতে বেঁধেছিলো গান শখের কোনো কবি। কবি ছিল আত্মভোলা রসে ভরা প্রাণ, কাব্যখানি নিপুণ ছিল সবই বিধাতার দান। সহসা কবি ভাবলো বসে পাড়ি দেবে দূর দেশেতে.. পড়ে সে এ কোন পোড়া গাঁয় এখানেতে মানুষ শুধু দুঃখের গান গায়। হাজার সৃষ্টি বুকে নিয়ে ভাব জমালো শহরে গিয়ে সোনার গাঁ রইলো পড়ে দূরদিগন্তের পাড়ে.... আজব সব বেশভূষণে -আদব সব কায়দা করলো চুরি শখের কবির আত্মভোলা মনটা। জটিল সব জীবন যাত্রা, জটিল সব প্রশ্নে কেড়ে নিলো সোনা কবির প্রাণটা অতি যত্নে। কোথায় কাব্য? কোথায় ভাব? কোথায় নাড়ির টান? বিধাতা বুঝি বুঝিয়ে দিলেন সভ্য জাঁক জমকের দান! অবাক কবি, ভাবে বসে বুঝি এ কোন বিশ্ব! প্রাণভরা রস মধু বিলিয়ে আজ সে নিঃস্ব! ভাবতে বসে মনে পড়ে পুরানো সেই গান, যেখানে সে রচেছিলো ভৈরবীর তান। আজ গোধূলি বেলায় হারায়ে সব অন্তপুরানে উঠেছে রব, মধু মিতালীর কলতান ভুলে সব প্রাণের টান এ বাসর রচেছিলো কার তরে? বিশ্ববিধাত্রীর আশীর্বাদ.... অন্তরে পুরায়ে স্বাদ.... রসের কবি ফিরিতে চায় ঘরে। হারায়ে ফেরে কবি খুঁজতে সুখের ছবি, বেদন মালা ল...

জাগরণ.....

পথ চলতে চলতে আমি ক্লান্ত; মনের ভারে নুইয়ে পড়া বিশাল বপু নিয়ে বসে আছি -এক তিল শান্তির আশায়-- ওই যে,-যেখানে জোনাকিরা মিট মিট করে আলো দেয়;- যেখানে কৃষ্ণচূড়ার রক্ত লাল ফুলদ্যূতি আন্দোলিত হয়ে পরস্পরকে আলিঙ্গন করে;- ছাগশিশু সাগ্রহে মাতৃস্তন্য পান করে এই পৃথিবীর বুকে এঁকে দেয় পরম সুখের আস্ফালন;-                বসে আছি সেখানে....               চাই না সূর্যের আলো.... জোনাকির ধূসর মৃদু আলো অঙ্গে ঢালতে চাই; ফুলদ্যুতির লালিমা এক মুহূর্তে শুষে নিয়ে হৃদয়ে তা প্রজ্জ্বলিত করতে চাই.. ছাগশিশুর সুখের আস্ফালন, মনে শান্তির চাবিকাঠি করে, সুখের তালা খুলতে চাই....     মুহূর্তে, শান্তির মিটমিটে আলো;.... অশান্তির, অসুখের কালো মেঘকে এক নিমেষে সরিয়ে দেয়;-      ফিরি ঘরে বিশাল বপু টানতে টানতে     বয়সের ভারে আজ আমি ক্লান্ত; কিন্তু, মিথ্যে সুখ খুঁজতে আর উন্মত্ত না;..... লাল হৃদয়ের প্রজ্জ্বলন আজ আমার চোখে মুখে জ্বলন্ত.... এই লালিমায় বিশ্বকে রাঙিয়ে দেবার স্পর্ধা রাখি............ সর্ব শরীরে আজ সুখের অবিরত ঝলকানি ...

অভিশপ্ত বাড়ী(সত্য ঘটনা অবলম্বনে)

গল্পটা একটু আগাগোড়া বলা দরকার|সরকার ভিলার বসতি ছেড়ে তনুৱা নিখিল গঞ্জ রোডের ৩/১লেনে এক বাড়ী নিয়েছে|সে মস্ত একখানা বাড়ী|লোহার গেট খুলতেই দুইদিকে সারি দেওয়া ফুল গাছ, বাহারী ঝাউ গাছ.. দুইদিকে সেড দেওয়া বসার জায়গা, সামনে একটা বড়ো থাম, তাতে বিলেতি কায়দার রঙিন আলো|আর অন্দরে যাওয়ার ঠিক বাঁ পাশে একটা বিশাল শ্বেত পাথরের বুদ্ধ মূর্তি আর তার ঠিক সামনে নানান রঙের আলো দিয়ে সাজানো এক ঝর্ণা..|              একদেখাতেই এই বাড়ীটি সনাতন বাবুর মনে লেগে গিয়েছিলো|স্ত্রী বিভাদেবীর সঙ্গে পরামর্শ করে নিয়েই নিলেন এই বাড়ীটা|শহরের যানজট থেকে নিষ্কৃতি পাবার আশায় বেশ কিছুটা দূরে নিরিবিলি জায়গায় অসীম বাবু খুব সাধ করে এই বাড়ীটি তৈরী করেছিলেন, কিন্তু বেশি দিন এই বাড়ীটিতে থাকা তাঁর ভাগ্যে ছিল না|গুপ্ত শত্রুর হাতে তাঁর মৃত্যু হয়, পরে অসীম বাবুর ছেলে বিদেশে চাকরির সুবাদে ঘর বাড়ী বিক্রী করে চলে যান|তিন হাত ফেরত হয়ে শেষমেশ এই বাড়ীটি সনাতন বাবুর নজরে পরে|বাইরে থেকে কোনো কথাই যে তাঁর কানে আসে নি এমন না;আসলে তিনি সেসব কথায় আমল দেননি|এই বাড়ীটি ভুতুড়ে বাড়ী হিসাবেই সকলে চেনে, কিন্তু সনাতন বাবুর মত...